সুরা হুজরাতের ৬ নং আয়াতের শানেনুযুল

ভূমিকা: আল-কুরআন মুসলমানদের জন্য জীবন পরিচালনার সর্বশ্রেষ্ঠ দিশারী। কুরআনের প্রতিটি আয়াত নির্দিষ্ট শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা বহন করে। অনেক আয়াত এমনও আছে যেগুলোর অবতীর্ণ হওয়ার পেছনে বিশেষ ঘটনা বা কারণ ছিল, যাকে বলা হয় শান-এ-নুযুল। সূরা হুজরাত মুসলিম সমাজের সামাজিক শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করে। এর মধ্যে ৬ নম্বর আয়াত বিশেষভাবে তথ্য যাচাইয়ের শিক্ষা দেয়। এখন আমরা আয়াতটির শান-এ-নুযুল আলোচনা করব।

আয়াত: > يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ

অর্থ: হে মুমিনগণ! যদি কোন ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে দেখবে, যেন অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি না কর এবং পরে নিজের কাজের জন্য অনুতপ্ত না হও।” (সূরা হুজরাত: ৬)

শান-এ-নুযুল:

তাফসিরকারগণের মতে, এই আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার ঘটনা হলো:

রাসূলুল্লাহ আল-হারিস ইবনে দিরার আল-খুজায়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ইসলামে দাওয়াত দেন। তিনি ইসলাম কবুল করে বলেন যে, তিনি তাঁর কওমকে ইসলাম গ্রহণে আহ্বান করবেন। পরে তিনি ও তাঁর কওম যাকাত প্রদানেও সম্মত হন।

নবী করিম যাকাত সংগ্রহের জন্য ওয়ালিদ ইবনে উকবা-কে তাঁর কওমের কাছে পাঠান। ওয়ালিদ পথিমধ্যে কিছু শত্রুর খবর পেয়ে ভীত হয়ে ফিরে আসেন এবং এসে বলেন যে, আল-হারিস ও তাঁর কওম যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে, বরং আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হয়েছে।

এ সংবাদ শুনে নবী করিম ক্রুদ্ধ হয়ে একদল সাহাবাকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। ঠিক তখনই আল-হারিস (রা.) নিজ কওমের লোকজন নিয়ে যাকাতসহ মদিনার উদ্দেশ্যে আসছিলেন। তাঁরা রাসূল এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেন—“আমরা খবর পেয়েছি যে, আপনার প্রেরিত সাহাবি আমাদের সম্পর্কে অন্য রকম কথা বলেছেন। অথচ আমরা যাকাত নিয়ে হাজির হয়েছি।

এ ঘটনায় প্রমাণিত হলো, ওয়ালিদ ভুল সংবাদ দিয়েছিলেন। তখন এ আয়াত নাজিল হয়, যেখানে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিলেনকোনো সংবাদ যদি ফাসিক (অবিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি) থেকে আসে তবে তা যাচাই না করে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।

উপসংহার: সূরা হুজরাতের ৬ নম্বর আয়াত মুসলিম সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। ভ্রান্ত তথ্য বা গুজবের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে অনেক সময় নিরপরাধ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ইসলামে তথ্য যাচাই (তাবাইয়ুন) করার নির্দেশ এসেছে। এই আয়াত আমাদেরকে সত্য, ন্যায় ও সতর্কতার পথে পরিচালিত করে এবং সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url