সুরা হুজরাতের ৭ নং আয়াতের শানেনুযুল

ভূমিকা: আল-কুরআনের প্রতিটি আয়াত নাজিল হওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট বা ঘটনা রয়েছে, যাকে শান-এ-নুযুল বলা হয়। এসব ঘটনা শুধু ঐতিহাসিক তথ্য নয়; বরং এগুলো আমাদেরকে আয়াতের প্রকৃত তাৎপর্য, শিক্ষা ও হিকমত বুঝতে সাহায্য করে। সুরা হুজরাত ইসলামি সমাজে ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সম্পর্ক ও নৈতিকতার মৌলিক শিক্ষা প্রদান করেছে। এর ৭ নং আয়াতে মুমিনদের অন্তরে ঈমানের ভালোবাসা, কুফর ও গোনাহকে ঘৃণা করার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। এই আয়াতের শান-এ-নুযুলও সেই শিক্ষার সাথে সম্পর্কিত।

শান-এ-নুযুল:

মুফাসসিরগণ বর্ণনা করেন, হযরত রাসূলুল্লাহ যখন মদীনায় মুনাফিক ও কিছু দুর্বল ঈমানদারদের সাথে কাজ করতেন, তখন অনেক সময় তারা ইসলামি আদেশ মানতে গড়িমসি করত কিংবা দ্বিধাগ্রস্ত হত। বিশেষ করে মুনাফিকরা ঈমানদারদের মাঝে সন্দেহ সৃষ্টি করতে চাইত। তখন আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত নাজিল করেন। এতে বলা হয় যে, আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের অন্তরে ঈমানকে প্রিয় করে তুলেছেন এবং কুফর, ফিসক ও গোনাহকে অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন।

অন্য এক বর্ণনায় আসে, কিছু সাহাবি ইসলামের কিছু বিধান মানতে গিয়ে প্রথমে কঠিন মনে করেছিলেন। তখন এই আয়াত দ্বারা জানানো হয়আসল মুমিন সেই, যার অন্তরে ঈমান স্বাভাবিকভাবে প্রিয় হয়ে যায় এবং গোনাহ তার কাছে ঘৃণিত হয়ে ওঠে। অর্থাৎ এটা আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ যে, তিনি কারও অন্তরে সঠিক পথে চলার ভালোবাসা সৃষ্টি করেন।

উপসংহার: সুরা হুজরাতের ৭ নং আয়াতের শান-এ-নুযুল থেকে বোঝা যায়, প্রকৃত ঈমান মানুষের অন্তরে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে। এটি মানুষের নিজস্ব অর্জন নয়; বরং আল্লাহর কৃপা। মুমিনের পরিচয় হলোতার অন্তরে ঈমানের প্রতি ভালোবাসা, আর কুফর ও গোনাহর প্রতি ঘৃণা। এ আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ঈমানের সৌন্দর্য অর্জন ও গোনাহ থেকে মুক্তি পেতে সর্বদা আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করা আবশ্যক।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url